বাংলাদেশের সেরা টেলিমেডিসিন সেবার নম্বর

সারাদেশে সন্দেহভাজন কোভিড-১৯ রোগিদের অনলাইন ভিত্তিক ফ্রী চিকিৎসা সেবা হটলাইন নম্বর গুলো হচ্ছে ৩৩৩, ১৬২৬৩, ১০৬৫৫। এখন পর্যন্ত এই হটলাইন নম্বর গুলোকেই বাংলাদেশের সেরা টেলিমেডিসিন সেবার নম্বর হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। সরকারী এই হটলাইন সেবার পাশাপাশি সারা দেশের বিভিন্ন সংগঠন থেকেও ফ্রি টেলিমেডিসিন সার্ভিস দেয়া হচ্ছে।

দেশে করোনা সেই শুরুর লগ্ন থেকে আমিও অনলাইন ভিত্তিক ফ্রী চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত করোনা কন্ট্রোল রুমে যুক্ত আছি। আমি ছাড়াও এখানে আরও ৪২১৮ জন সেচ্ছাসেবী চিকিৎসক নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। দিনে প্রায় ১ লক্ষের অধিক কল আসে, যাদেরকে চিকিৎসা পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। টেলিমেডিসিন সেবায় করোনার হার কমেছে।

টেলিমেডিসিন কি?
টেলিমেডিসিন হলো অনলাইন ভিত্তিক বা ফোন ভিত্তিক চিকিৎসা সেবা। টেলিমেডিসিন ধারণা বা প্রক্রিয়াটি এসেছে তিনটি সমস্যা থেকে – দূরত্ব, সময়, অপ্রাপ্যতা সমস্যা।
অর্থাৎ রোগী যখন চিকিৎসা সেবা নিতে যায় অনেক সময় দেখা যায় বাসা থেকে হাসপাতাল অনেক দূরে, যেখানে রোগী নিয়ে যাওয়া কষ্টসাধ্য, সে ক্ষেত্রে দূরত্ব একটি সমস্যা।
আবার ভয়াবহ মুমূর্ষু রোগীর ক্ষেত্রে দূরবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া ক্ষেত্রে “সময়”একটি বড় ইস্যু। কিছু কিছু গ্রাম অঞ্চল ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডাক্তার দেখানো টা মুশকিল। কারন সেখানে ডাক্তার সংখ্যা খুবই কম।
ডাক্তার অপ্রাপ্যতা আরেকটি সমস্যা, হাসপাতালের দূরত্ব, সময় ও ডাক্তার অপ্রাপ্যতা এইসব সমস্যা সমস্যা সমাধানের ও স্বাস্থ্যসেবা সহজ করার উদ্দেশ্যে যে টেলিফোন বা ডিজিটাল মাধ্যমে চিকিৎসা দেয়ার যে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে তার নাম টেলিমেডিসিন সেবা।
পেইড সার্ভিসের মাধ্যমে মোবাইল ফোন বা বিভিন্ন অ্যাপস যেমন হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক মেসেঞ্জার, ইমো, ভাইবার, স্কাইপ ইত্যাদির মাধ্যমে অডিও ভিডিও কলের মাধ্যমে এই সেবা দেয়া হয়।
টেলিমেডিসিন সেবা

সরকার এবং হাসপাতাল গুলো রোগীদেরকে ক্লিনিকে যাওয়ার আগে পরামর্শের জন্য ভার্চুয়াল টেলেমেডিসিন সেবা নেয়ার জন্য উৎসাহিত করছে। এটি বিশেষত সে সব রোগীদের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ যারা মনে করেন যে তাদের কোভিড -১৯ রয়েছে।, তবে তারা অসুস্থ নন, হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন নেই। ভার্চুয়াল মাধ্যমে টেলিমেডিসিন সেবায় পরামর্শের মাধ্যমে চিকিৎসকরা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি ছাড়াই রোগীদের পরামর্শ দিতে পারবেন।

এখন পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হটলাইনে মোট ফোন কলের সংখ্যা ১ কোটি ৮০ লাখের অধিক। যদিও কিছু অভিযোগ রয়েছে, তবুও কল সংখ্যা দেখেও অনুমান করা যায় বাংলাদেশের সেরা টেলিমেডিসিন সেবার নম্বর এর জায়গায় স্থান করে নিতে পেরেছে ৩৩৩।

স্বাস্থ্য সেবার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে “কোভিড-১৯ টেলিহেলথ সেন্টার। এক মাসে ১,০০,০০০ করোনা আক্রান্ত মানুষকে হেল্থ, ইমার্জেন্সি ও বিভিন্ন সেবা প্রদান করা হয়েছে।

বিগত জুন হতে করোনা আক্রান্ত মানুষকে বাড়িতে চিকিৎসা, কাউন্সেলিং করা হয়েছে। এছাড়া বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সেবা, অ্যাম্বুলেন্স সেবা, হাসপাতাল সংক্রান্ত সেবা এবং খাদ্য ও ওষুধ সংক্রান্ত সেবা প্রদান করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৯৬% মানুষ সুস্থ হয়েছে বাড়িতে থেকেই।

কিভাবে সেরা টেলিমেডিসিন সেবা বাছাই করবেন-
টেলিমেডিসিন সেবার আবির্ভাব নতুন নয় পূর্বের প্রচলন ছিল। কিন্তু বর্তমানে এর জনপ্রিয়তা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। করোনা মহামারী পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে মানুষ ঘরে বসে টেলিমেডিসিন সেবা নিচ্ছে।
তবে কিভাবে সেরা টেলিমেডিসিন সেবার নম্বর বাছাই করবেন সেদিকে আপনার কিছু বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবেঃ

১. অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বাছাই করুন।

২.আন্তরিক ও সময় নিয়ে আপনার সমস্যার কথা শুনবে এমন চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

৩. কিছু ডাক্তারের ক্ষেত্রে খরচটা একটু বেশি হবে তবে কম খরচে ভালো সেবা দিবে এমন চিকিৎসক নির্বাচন করুন।

৪. যে এ্যাপস দিয়ে আপনি অডিও বা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন সেই মাধ্যমটি যেমন হোয়াটসঅ্যাপ ম্যাসেঞ্জার ভাইবার ইত্যাদি আপনার জন্য সহজ কিনা সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। এখন অনেক ডাক্তার আছে যারা সরাসরি ফোন কলের মাধ্যমে টেলিমেডিসিন সেবা দিয়ে থাকে, তাই এই বিষয়টি নির্বাচন করা আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

৫.অনেক সময় ডাক্তারের এপোয়েন্টমেন্ট পেতে দেরি হয়। সে ক্ষেত্রে দ্রুত এপোয়েন্টমেন্ট পাবেন এমন চিকিৎসক বাছাই করুন।

৬. পরবর্তীতে আপনার কোন প্রয়োজনে তার চেম্বারে গিয়ে চিকিৎসা পরামর্শ নিতে পারবেন এমন চিকিৎসক বাছাই করুন।

৭.পূর্বে টেলিমেডিসিন সেবা নিয়ে যে চিকিৎসকের মাধ্যমে আপনি সুস্থ হয়েছেন পরবর্তী কোন সমস্যায় তাকে আবার দেখানো উত্তম, এতে করে আপনার রোগ সম্পর্কে চিকিৎসকের পূর্ববর্তী ধারনা থাকবে, যাতে করে আপনার চিকিৎসা দেয়া তার জন্য আরও সহজ হবে।

৮. টেলিমেডিসিন সেবা নেয়ার জন্য ফেসবুক লাইভ এবং টিকটকের মতো খোলা প্ল্যাটফর্মগুলি এড়ানো উচিত।

 

টেলিমেডিসিন সেবার ১০ টি সুবিধা

১. যেহেতু এটি একটি অনলাইন ভিত্তিক অথবা ফোন ভিত্তিক সেবা, তাই দেশ বা দেশের বাইরে যে কেউ এই সেবা সহজে গ্রহণ করতে পারে।

২. যারা গ্রামে বা প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকে তাদের কষ্ট করে শহরে আসতে হয় না, যাতায়াত কোন ঝামেলা নেই,ঘরে বসে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারে।

৩. অনলাইনে ডাক্তারদের তালিকা থেকে খুব সহজে পছন্দমত বিশেষজ্ঞ ডাক্তার খুঁজে পাওয়া যায় এবং তার অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেয়া যায়।

৪. অডিও বা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে স্বল্প সময়ে চিকিৎসা পরামর্শ দেয়া হয।

৫. হাসপাতাল বা চেম্বার ফি’র প্রায় অর্ধেক খরচে অর্থাৎ স্বল্প খরচে এই সেবা নেয়া যায়। দরিদ্র বা কম আয়ের মানুষগুলোর জন্য টেলিমেডিসিন সেবা অভূতপূর্ণ সাফল্য নিয়ে এসেছে। ডাক্তার বিমুখী মানুষগুলো এখন এই সেবামুখী হচ্ছে। সর্বোপরি টেলিমেডিসিন সেবার জন্য মানুষের স্বাস্থ্য সচেতনতা অনেকাংশে বেড়ে গেছে।

৬.প্রেসক্রিপশন এসএমএস বা অ্যাপস এর মাধ্যমে পাঠানো হয় যা পরবর্তীতে প্রিন্ট করা যায়। চিকিৎসকের হাতে লেখা প্রেসক্রিপশন অনেকেই বুঝতে পারে না, টেলিমেডিসিন সেবার মাধ্যমে এই সমস্যাটি সম্পূর্ণভাবে সমাধান হয়েছে।

৭. দিনে বা রাতে যেকোনো সময়ে টেলিমেডিসিন এর মাধ্যমে চিকিৎসা পরামর্শ নেয়া যায়।

৮. করোনা এই দুর্যোগে বাইরে আসা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ তাই এই সময় টেলিমেডিসিন অত্যন্ত কার্যকর। মানুষ এই সেবায় সন্তুষ্ট এবং অধিকাংশ রোগী বাসায় বসে এই সেবার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে যাচ্ছে,করোনা মহামারী ঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যে স্বল্প খরচে, সল্প সময়ে নিজ অবস্থানে থেকে এই সেবা নেয়ার ফলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে।

৯. টেলিমেডিসিন সেবায় রোগীর চিকিৎসা ইতিহাস সংরক্ষণ করার জন্য রয়েছে ডিজিটাল রেকর্ড এবং ফলোআপ সিস্টেম।

প্রবাসীদের জন্য টেলিমেডিসিন সেবা

প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য টেলিমেডিসিন সেবার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর:+8801713068384। যেখানে শুধুমাত্র প্রবাসীদের আলাদা করে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। প্রবাসীদের জন্য জনপ্রিয় টেলিমেডিসিন নম্বর

শ্রমজীবীদের জন্য টেলিমেডিসিন সেবা-

শ্রমজীবী মানুষের চিকিৎসা সেবায় আলাদা টেলিমেডিসিন সেবা চালু করেছে সরকার। শ্রম কল্যাণ কেন্দ্র সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডাঃ সৈয়দা নুরুন নাহার ইসলাম – ০১৭১৬০৮০২২৭।

ডাঃ ফেররেদৗস আরা-  ০১৯২০৭১৫৯৮৪, ডাঃ রিফাত মেহজাবিন ০১৭১৬০১১৪৩২, ডাঃ রাজিব কুমার চৌধুরী ০১৮৪২৩৮৩১১১। ডাঃ চাঁদ মোহাম্মদ ০১৭১৮১১৯৯৪৯, ডাঃ নিবাস চন্দ্র পাল ০১৭১১৩২৫৭১৩, ডাঃ রাশেদ মাহমুদ জুলফিকার ০১৮১৭৭৪১৭৪৬।

অন্যান্য টেলিমেডিসিন সেবা-

Human Health Helpline- দেশের ও প্রবাসের যে কোন রোগী ঘরে বসে থেকে বা টাচ্ পয়েন্টে গিয়ে টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে রোগীর সাথে বিএমডিসি রেজিষ্টার্ড এমবিবিএস/বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের ভিডিও কনসাল্টেশন ও ই-প্রেসক্রিপশন প্রদান যা ক্লাউড সার্ভারে সংরক্ষিত থাকে ০১৭৪২৮৪৯৪৪৯

মিলভিক হেলথ: বছরে ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৫৫০০ টাকা পর্যন্ত  ফি দিয়ে সেবা নেয়া যায়। যোগাযোগের নম্বর- ২১২১৬, ০৯৬১৪৫০০৫৯৯।

অলঅয়েল ডিজিটাল হাসপাতাল: অলঅয়েল ডিজিটাল হাসপাতালে কল করে টেলিমেডিসিন সেবা নেয়া যায়। ভিজিট ফি ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত। ফোন- ০৯৬৬৬৭৬৬০০০।

এছারাও ডিজিটাল হেলথকেয়ার ফাউন্ডেশন টেলিমেডিসিন সেবা দিচ্ছে। মোবাইলে ও অ্যাপের মাধ্যমে ডাক্তারের পরামর্শ ও ই-প্রেসক্রিপশন দিচ্ছে

অনলাইনে ওষুধ-

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি অনেক ফার্মেসিও তাদের সেবা নিয়ে এসেছে অনলাইনে। তাদের ছোট একটি তালিকা:

ইভ্যালি: ঢাকায় রয়েছে তাদের ১৫টি এক্সপ্রেস ফার্মেসি। ফোন- 09638-111666

অ্যাপোলো ফার্মাসি: ন্যূনতম ৫০০ টাকার ওষুধ অর্ডার করতে হয়। তাঁদের হোম ডেলিভারি সেবা পাওয়া যাবে সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত।

দারাজ:  ডিফার্মা নামে একটি ক্যাটাগরি রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির, যেখানে শুধু প্রয়োজনীয় ওষুধ রয়েছে।

সহজ: সহজ অ্যাপে ঢুকে এরিয়া সিলেক্ট করে দিলেই আশপাশে থাকা ওষুধ স্টোরগুলো যুক্ত হবে এখানে। ফোন- 16374

পাঠাও: পাঠাও অ্যাপে ঢুকলেই ‘ফার্মা’ নামে একটি অপশন পাবেন। সেখানে ক্লিক করলেই মিলবে এসব ফার্মেসি স্টোর।

ফুডপান্ডা: বাংলাদেশের ২৫টি শহরে ওষুধ ফ্রি ডেলিভারি দিচ্ছে ফুডপান্ডা। এরই মধ্যে তাদের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে শতাধিক ফার্মেসি।

খিদমা ড্রাগ: ফোন – 01302891259।  সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা, প্রতিদিন অর্ডার করা যায়। ডেলিভারীর সময়ঃ  সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা, প্রতিদিন।

ওষুধ ডটকম: ওয়েবসাইট থেকে বাছাই ছাড়াও প্রেসক্রিপশনের ছবি আপলোড করে ক্রেতারা এই অনলাইন মাধ্যম ওষুধ ডটকম হটলাইন নম্বরে- ০১৬৭১৯৬৮৭৭৭

ফার্মেসি ডটকম ডটবিডি : ওয়েবসাইট ছাড়াও হটলাইন নম্বরে (০১৯৯৯৯৯৭৬০৩-৫) ফোন করে ২৪ ঘণ্টা ওষুধের অর্ডার করা যায় এখানে।

ঢাকা ফার্মা ডটকম: শুধু ঢাকায় ওষুধ ডেলিভারি পেতে  dhakapharma com অথবা ফোন (০১৫১১৫৫১১৩৩) নম্বরে কল করে ওষুধ অর্ডার দেয়া যায়।

লার্জফার্মা ডটকম:  লার্জফার্মার ওয়েবসাইট www lazzpharma com অথবা ফোন (০১৩১৯৮৬৪০৪৯) নম্বরে কল করলেই আপনার ঠিকানায় ওষুধ চলে আসবে।

ডায়াবেটিস স্টোর: ডায়াবেটিস রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং পরীক্ষার যন্ত্র পাওয়া যায়। ওয়েবসাইটের ঠিকানা diabetesstore com bd

তামান্না ফার্মেসি: ০১৩০০৮৭১৪৪১ নম্বরে অথবা হোয়াসঅ্যাপ, ভাইবার এবং ইমোর মাধ্যমে অর্ডার করলে বাসায় পৌঁছে দেবে ওষুধ।

এছাড়া জীয়ন ফার্মেসী থেকে অর্ডার করা ওষুধের হোম ডেলিভারী দিয়ে থাকে। মোবাইল ০১৯৩৩৩৯৯৭৬৮। ফার্মেসি বিডি- ফোন – ০১৯৯৯৯৯৭৬০৩

টেলিমেডিসিন সেবা জনপ্রিয় হওয়ার কারণ-

টেলিমেডিসিন নতুন নয়। অতীতে পরিচিত চিকিৎসকের কাছ থেকে মানুষ টেলিফোনে নানা পরামর্শ নিতেন। মুঠোফোন চালু হওয়ার পর থেকে মানুষ রোগব্যাধিতে পরামর্শ পাওয়ার পাশাপাশি খুদে বার্তায় ব্যবস্থাপত্র পেতে শুরু করেন।

চিকিৎসাপ্রযুক্তি ও তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে এর সুবিধা নিচ্ছেন চিকিৎসক ও রোগীরা। কিন্তু এটা এত দিন ছিল বিকল্প ব্যবস্থা। মহামারির সময় বেশি মানুষের কাছে প্রধান ব্যবস্থা হয়ে উঠেছে টেলিমেডিসিন।

প্রক্রিয়াটি নতুন হলেও করোনাকালীন সময়ে বাংলাদেশে টেলিমেডিসিন সার্ভিস জনপ্রিয় হচ্ছে। ঘর থেকে বের না হয়ে ডাক্তার এর প্রেসক্রিপশন নেয়ার সহজ এই পদ্ধতি দিন দিন জেলা পর্যায় থেকে উপজেলা, গ্রাম, ইউনিয়ন পর্যায়েও ছড়িয়ে পড়েছে।

গ্রাম পর্যায়ে টেলিমেডিসিন সার্ভিস পৌঁছে দিতে সরকার সব রকম সহায়তা করে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১৩ হাজারের বেশি কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিয়ে তাদেরকে ল্যাপটপ ও ইন্টারনেট সংযোগ দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের সেরা টেলিমেডিসিন সেবার নম্বর এ সেবা পাওয়া সহজ করে দেয়া হচ্ছে।

টেলিমেডিসিন সার্ভিসের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠী সহজে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারছে। কিছু গ্রামঅঞ্চলে ইন্টারনেট সংযোগযুক্ত কম্পিউটার বা ল্যাপটপ, ওয়েবক্যাম সুবিধা না থাকলেও মোবাইলের ইন্টারনেট এবং মোবাইলের ক্যামেরার মাধ্যমেই টেলিমেডিসিন সার্ভিস নেয়া যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে বিভিন্ন সোশ্যাল অ্যাপ যেমন – ফেসবুক মেসেঞ্জার, হোয়াটস আপ, ভাইবার, ইমো বা গুগল টেলিমেডিসিন হেলথ কেয়ার ব্যাবহার করা হচ্ছে।

ঘরে বসে চিকিৎসা

টেলিমেডিসিন সেবা জনপ্রিয় হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে- ঘরে বসেই টেলিমেডিসিন সার্ভিস নেয়ার ফলে করোনা আক্রান্তের ঝুকি কম থাকে। সামনা-সামনি ডাক্তার দেখানোর তুলনায় খরচ খুবই সামান্য অথবা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ফ্রি। এক্ষেত্রে অনলাইন ডক্টর মানবিক ভূমিকা পালন করছে।

খরচ কম হওয়ায় এক দিকে যেমন কম খরচে দারিদ্র্য জনগোষ্ঠীও উন্নত সেবার আওতায় আসছে, অন্য দিকে হাসপাতালেরও ব্যয় কমছে। সরকারী হাসপাতাল গুলোর আউট ডোরের লাইন কমিয়ে আনতে টেলিমেডিসিন হতে পারে স্বাস্থ্য খাতের অন্যতম নতুন ধারণা।

টেলিমেডিসিন সার্ভিসের ফলে ডিজিটাল মাধ্যমে ডাক্তারের কাছ থেকে রোগীর তথ্য হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এতে একই রোগীকে পরবর্তীতে যে কোন সময় চিকিৎসা সেবা দিতে পুনরায় রোগের ইতিহাস নেয়ার প্রয়োজন হয় না।

বাংলাদেশের সেরা টেলিমেডিসিন সেবার নম্বর ৩৩৩ হয়তো করনাকাল শেষ হলে বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু টেলিমেডিসিন সেবা চিকিৎসা ক্ষেত্রে যে সুফল বয়ে এনেছে, তা ভবিষ্যতেও থেকে যাবে।

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একদল গবেষক টেলিমেডিসিন মাধ্যমে রোগ ডায়াগনোসিসের (রোগ নির্ণয়) ক্ষেত্রে কিছু ডায়গনস্টিক ডিভাইজ উদ্ভাবন করেছে, যেমন হচ্ছে কনভার্ট স্টেথোস্কোপ, যা রোগীর বুকে ধরলে চিকিৎসক তার স্টেথোস্কোপে শব্দ শুনতে পাবে। আবার ইসিজির লিড লাগালে সেই গ্রাফ চিকিৎসক ওখান থেকে বসে দেখতে পাবে।

এই সেবাগুলো গ্রামাঞ্চলে ব্যবস্থা করা হয়েছে, তাদের এই উদ্ভাবন ধারা অব্যাহত রয়েছে। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও চিকিৎসা সেবা অনেক এগিয়ে গিয়েছে, আশা করা যায় আগামীতে বাংলাদেশে টেলিমেডিসিন সেবা আরো সহজ হবে।

One thought on “বাংলাদেশের সেরা টেলিমেডিসিন সেবার নম্বর

Comments are closed.