মানুষের ভয়ে নির্জনতা- অ্যানথ্রোপোফোবিয়া

নির্জনতা এক ধরণের রোগ। নিজেকে লোকচক্ষুর অন্তরালে রাখা এটি কোন স্বাভাবিক ঘটনা না। অনেক সময় এরা বিভিন্ন শ্রেণির মানুষদের দেখলে ভয় পায়। পৃথিবীর সকল মানুষকেই ভয় পেয়ে থাকেন তাহলে বিষয়টি মোটেও আর স্বাভাবিক বলা চলে না! কারণ, এই ভয় পাওয়াটা হতে পারে একটি মানসিক রোগের লক্ষণ। মানুষের ভয়ে নির্জনতা অ্যানথ্রোপোফোবিয়া কোনও সাধারণ মানসিক রোগ নয়। পরিস্থিতি, বিষয় বা নির্দিষ্ট কোনও কারণ ছাড়াই সব মানুষকে ভয় পাওয়া বা এড়িয়ে চলার প্রবনতা অ্যানথ্রোপোফোবিয়ার লক্ষণ হতে পারে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, এই রোগের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে কয়েকটি তথ্য দেওয়া হলো-

অ্যানথ্রোপোফোবিয়া হওয়ার কারণ

নিউরোলজিক্যাল কোনও সমস্যা থেকে এই রোগের উৎপত্তি। তবে অটিজমের সঙ্গে অ্যানথ্রোপোফোবিয়ার তেমন কোন সম্পর্ক নেই। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এই রোগটির নির্দিষ্ট কোনও কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না এবং এই সমস্যাটি যে কোনও মানুষের, যে কোনও বয়সেই হতে পারে। বিশেষত, ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী মানুষের মধ্যে অ্যানথ্রোপোফোবিয়ার প্রকোপ অধিক লক্ষ্য করা যায়।

অতীতের কোনও বিশেষ ঘটনা, কোনও ভয়, মানসিক আঘাতের ফলে অ্যানথ্রোপোফোবিয়া শরীরে বাসা বাঁধতে পারে। ওই চিকিৎসক আরও জানান, যে সকল ব্যক্তিরা অত্যধিক হীনমন্যতায় ভোগেন, বিভিন্ন কারণে একাকিত্বের শিকার, তাঁদের মধ্যেই অ্যানথ্রোপোফোবিয়ার প্রকোপ অধিক লক্ষ্য করা যায়।

মনরোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ সমীরচন্দ্র দাস জানান, নিউরোলজিক্যাল কোনও সমস্যা থেকে এই রোগের উৎপত্তি। তবে অটিজমের সঙ্গে অ্যানথ্রোপোফোবিয়ার তেমন কোনও সম্পর্ক নেই। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এই রোগটির নির্দিষ্ট কোনও কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না এবং এই সমস্যাটি যে কোনও মানুষের, যে কোনও বয়সেই হতে পারে। বিশেষত, ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী মানুষের মধ্যে অ্যানথ্রোপোফোবিয়ার প্রকোপ অধিক লক্ষ্য করা যায়।

অতীতের কোনও বিশেষ ঘটনা, কোনও ভয়, কোনও মানসিক আঘাতের ফলে অ্যানথ্রোপোফোবিয়া শরীরে বাসা বাঁধতে পারে। ডঃ দাস জানান, যে সকল ব্যক্তিরা অত্যধিক হীনমন্যতায় ভোগেন, বিভিন্ন কারণে একাকিত্বের শিকার, তাঁদের মধ্যেই অ্যানথ্রোপোফোবিয়ার প্রকোপ অধিক লক্ষ্য করা যায়।

মানুষের ভয়ে নির্জনতা অ্যানথ্রোপোফোবিয়া কোনও সাধারণ মানসিক রোগ নয়। পরিস্থিতি, বিষয় বা নির্দিষ্ট কোনও কারণ ছাড়াই সব মানুষকে ভয়

অ্যানথ্রোপোফোবিয়ার লক্ষণ

১) এই রোগের মূল লক্ষণ হল, যেকোনও মানুষকে ভয় পাওয়া। যেকোনও মানুষকে ভয়ের চোখে দেখতে থাকেন এই রোগে আক্রান্তরা রোগীরা।

২) কারও সঙ্গে কথা বলতে গেলে ভয় পাওয়া, চোখ মুখ শুকিয়ে যাওয়া এবং শরীরে কাঁপুনি ওঠা।

৩) মুখ চোখ রক্তবর্ণ হয়ে যাওয়া এবং ঘন ঘন শ্বাস নেওয়া অথবা শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া।

৪) হার্টবিট খুব অল্প সময়ের মধ্যে বৃদ্ধি পাওয়া।

৫) মানুষের সঙ্গে না মেশা এবং ঘরের অন্ধকারে নিজেকে বন্দি করে বসে থাকা।

৬) মানুষ দেখলেই ভয়ে চিৎকার করে ওঠা এবং পরিচিত মানুষকেও চিনতে না পারা।

৭) নির্জনতার প্রতি অত্যাধিক আকর্ষণ অনুভব করা।

৮) সামাজিক, পারিবারিক উত্সব অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলা ইত্যাদি।

অ্যানথ্রোপোফোবিয়ার সমাধান

মানুষের ভয়ে নির্জনতা অ্যানথ্রোপোফোবিয়া এক দিনে হয় না। নির্দিষ্ট কারণে অ্যানথ্রোপোফোবিয়া হলেও দীর্ঘদিনের জীবন যাপনের ফলেই তা আচরণের পরিবর্তন ঘটায়। তাই হঠাৎ করেই সেরে ওঠা সম্ভব নয়। তবে এগিয়ে আসতে হবে আপনাকেই।

নিজেকে বলুন, পৃথিবীতে প্রত্যেকেই তার নিজের প্রয়োজনে এসেছে। আপনিও তার ব্যতিক্রম নন। আপনার প্রয়োজন পৃথিবীর যেকোনো জায়গায় ছড়িয়ে থাকতে পারে। আর সেখানে যেতে আপনার কোনো বাধা নেই। নিজেকে বোঝান, পৃথিবী আপনার। জীবন একটাই। আর এ মূল্যবান জীবন পালিয়ে বেড়ানোর নয় বরং প্রাণভরে উপভোগ করার।

সবাই আচরণ ও বাহ্যিক গঠনের দিক থেকে আলাদা। তবে তাই বলে কেউ পিছিয়ে থাকবে তা কেন! ধীরে ধীরে জড়তা কাটান। আর তা শুরু হোক আজকেই। বন্ধুদের ফোন করুন। হয়তো প্রথমে অস্বস্তি লাগবে। কোনো পার্টি বা বিয়ের অনুষ্ঠানে গেলে সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করুন। প্রশংসা করুন। বাড়ির সবার সঙ্গে গল্প করুন। একসময় সব সংশয় কেটে যাবে। ভালো থাকুন।

অ্যানথ্রোপোফোবিয়া রোগের চিকিৎসা

সাধারণ অন্যান্য মানসিক রোগের মতো না হলেও অ্যানথ্রোপোফোবিয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে মনরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে বিভিন্ন থেরাপি এবং কাউন্সেলিং-এর মাধ্যমেই এই রোগটি পুরোপুরি ভালো হয়ে যায়। তবে অবহেলার কারণে এই রোগটি মারাত্মক হয়ে দাঁড়াতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত অনেক দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

এই রোগ যত আগে ধরা পড়বে, তত দ্রুত অসুখ প্রতিরোধ করে সারিয়ে তোলা সম্ভব। তাঁর লেখা ‘হিপনো কাউন্সেলিং’ নামের বইটিতেও অ্যানথ্রোপোফোবিয়া এ জাতীয় বিভিন্ন মনোরোগ, সেগুলোর লক্ষণ বা চিকিত্সার পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করেছেন তিনি। সুতরাং, নিজের মানসিক সমস্যাগুলোকেও শারীরিক অসুখের মতোই যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা করানো জরুরি।