টেলিমেডিসিন সেবায় করোনার হার কমেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

টেলিমেডিসিন সেবা ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার কমেছে বলে মনে করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সঙ্গে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি সই অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় হাসপাতালে কোভিড-১৯ রোগী সংখ্যা কম থাকা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কোভিড-১৯ মোকাবিলায় সরকার দ্রুত কিছু উদ্যোগ নিতে সক্ষম হয়েছে।

প্রথম দিকে কেবলমাত্র ঢাকা মেডিকেল কলেজে সেন্ট্রাল অক্সিজেন ব্যবস্থা চালু ছিল। এখন জেলা শহরেও সেন্ট্রাল অক্সিজেন ব্যবস্থা চালু করাসহ প্রায় ৭০টি হাসপাতাল সেন্ট্রাল অক্সিজেন ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যার ফলে রোগীর সংখ্যা কমে আসছে।

জাহিদ মালেক বলেন, ‘আমাদের টেলিমেডিসিন ব্যবস্থার মাধ্যমে শত শত চিকিৎসক অনলাইনে কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন কিছু কার্যকরী চিকিৎসা সেবা কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে দেওয়া হচ্ছে। ফলে দেশে ধীরে ধীরে আক্রান্তের হার কমতে শুরু করেছে।’

এর আগে স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলী নূর’র সভাপতিত্বে সভায় ৫টি দফতরের সঙ্গে চুক্তি সই হয়। দফতরগুলো হচ্ছে- পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতর, নিপোর্ট, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতর, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতর।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী চুক্তিকৃত দফতর প্রধানদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাইডলাইন অনুযায়ী স্বচ্ছতা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। সূত্র- সারাবাংলা

এর আগে গত ২২ জুলাই সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জাহিদ মালেক বলেন, এখন হাসপাতালে অর্ধেক রোগী। রোগীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। সবাই চায় যে রোগীর সংখ্যা কমে যাক, অর্থাৎ ক্রিটিক্যাল রোগী আর নাই। আপনারা প্রশ্ন করতে পারেন, কেন নাই? বিকজ স্বাস্থ্য-চিকিৎসাব্যবস্থা অনেক ভালো হয়েছে। ঘরে থেকে মানুষ চিকিৎসা নিচ্ছে। অর্থাৎ টেলিমেডিসিন আমরা যেটা দিচ্ছি সেটা খুব ভালো কাজ করছে।

তিনি বলেন, চার হাজারের অধিক ডাক্তার টেলিমেডিসিন দিচ্ছে। মেডিসিনের যেটা প্রয়োগ, সেটাও খুব ভালো হচ্ছে। যে কারণে ঘরে থেকেই লোকে সেবা পেয়ে যাচ্ছে। হাসপাতালে যারা খুবই মুমূর্ষু রোগী বা ক্রিটিক্যাল, তারা আসছে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত করোনা সংক্রমণের পর থেকে টেলিমেডিসিন সেবা দিয়ে আসছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। জাতীয় কল সেন্টার (৩৩৩), স্বাস্থ্য বাতায়ন (১৬২৬৩) ও আইইডিসিআরের (১০৬৫৫) হটলাইন নম্বরে এ স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে তারা।

করোনাসহ বিভিন্ন রোগে মানুষ মোবাইলে এসব নম্বরে কল করে স্বাস্থ্যসেবা নিচ্ছেন। স্বাস্থ্য অধিদফতর এসব নম্বরে এ পর্যন্ত এক কোটি ৭৩ লাখ ১০ হাজার ৪৫০ ফোন কল গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে করোনা সংক্রান্ত সেবা দিয়েছে এক লাখ ১৫ হাজার ৯৭৫ ফোন কলে।